পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাসুদ মোল্লা । ৩০ নভেম্বর ২০২০ তারিখে তাকে গ্রেফতার করেন পুলিশ ।

ওই ব্যক্তির নাম মাসুদ মোল্লা (৪০)। তিনি উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের সুজনকাঠী মজিদবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

সোমবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। এ সময় আদালত মাসুদ মোল্লাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত।

মাসুদ মোল্লা উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের পূর্ব সুজনকাঠী গ্রামের মৃত মোছলেম আলী মোল্লার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, মাসুদ মোল্লা যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে কোনো পদ-পদবিতে নেই। তারপরও নিজেকে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন তিনি।

আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম মামলার বরাত দিয়ে জানান, সুজনকাঠী মজিদবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মাসুদ মোল্লা ও নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর বাড়ি পাশাপাশি। ওই ছাত্রী সুজনকাঠী মজিদবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। ওই ছাত্রীর পরিবার অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল। এজন্য কয়েকদিন আগে মাসুদ মোল্লাকে ওই ছাত্রী তার মায়ের নামে একটি সরকারি রেশন কার্ড করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করে। বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) রাতে মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে মাসুদ মোল্লা ওই ছাত্রীকে তার বাড়িতে আসতে বলেন।

মাসুদ মোল্লা তার এক ছেলে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। তার স্ত্রী বর্তমানে ইতালি রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ওই ছাত্রী তার মাকে সঙ্গে করে মাসুদ মোল্লার বাড়িতে যায়। এরপর তার কাছে ছাত্রীর মা পরিচয়পত্র ও ছবি দেন। কথাবার্তা শেষে ওই ছাত্রীর সঙ্গে আলাদা কথা বলার জন্য তার শয়ন কক্ষে নিয়ে যান মাসুদ মোল্লা। এরপর সেখানে নিয়ে দরজা আটকে দেন। পরে রেশন কার্ড করে দেয়ার প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।

লজ্জা ও মাসুদ মোল্লার হুমকির কারণে ওই ছাত্রী বিষয়টি গোপন রাখে। রাতে ধর্ষণের ঘটনা কাউকে না জানালেও পরদিন শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) ধর্ষণের ঘটনা তার মাকে খুলে বলে ওই ছাত্রী। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে রোববার (২৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে মাসুদ মোল্লাকে আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা করেন। লিখিত অভিযোগ পেয়ে ওই রাতেই আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাসুদ মোল্লাকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, সোমবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে মাসুদ মোল্লাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণ-সংক্রান্ত মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ওই ছাত্রীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ওই ছাত্রীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত।

তথ্যসুত্র