প্রতিবেশী তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন সিফাত সানি । মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সানিকে ৭ মার্চ ২০২১ তারিখ রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ধর্ষক সিফাত সানি – ধর্ষক ডাটাবেজ

রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার মেহেরচন্ডী এলাকায় প্রতিবেশী তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সিফাত সানির। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে করেন শারীরিক সম্পর্কও। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই তরুণী।

তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা জানতে পেরে গোপনে তাকে সন্তান নষ্ট করার ওষুধ এনে দেন সানি। কিন্তু তরুণীর বাড়িতে ঘটনাটি জানাজানি হয়। সানিকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দেন মেয়ের বাবা। বিয়েতে সম্মতি না দিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান সানি।

পরে উপায় না পেয়ে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা। পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সানিকে ৭ মার্চ রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাকে যেতে হয় জেলে।

পরিবারের অনেক দৌড়ঝাঁপে ধর্ষণ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন মেলে। তবে জুড়ে দেওয়া হয় শর্ত। দুই মাসের মধ্যেই পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিয়ে করতে হবে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে। তবেই মামলা থেকে মিলবে মুক্তি, অন্যথায় ভোগ করতে হবে কারাগারের শাস্তি। অবশেষে হাইকোর্টের দেওয়া শর্ত মেনে নেয় সানির পরিবার।

রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আদালতে সিফাত সানির সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর বিয়ে হয়। এতে ধর্ষণ মামলা থেকে মুক্তি পান সানি।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. মোখলেসুর রহমান স্বপন বলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ এর বিচারক মো. সেলিম রেজার উপস্থিতিতে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বাদী ও বিবাদীর মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিয়ের কাবিননামাসহ মামলার সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট আদালতে জমা দিতে হবে। অন্যথায় মামলা থেকে অব্যহতি মিলবে না তার।

তরুণীর বাবা বলেন, আট পেরিয়ে ৯ মাস হতে চলছে আমার মেয়ের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সানি একাধিকবার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পালিয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলাম। আদালত থেকে সুবিচারও পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের আদেশের কারণে বাধ্য হয়ে সানিকে বিয়ে করতে হয়। এছাড়া সে জামিন পেতো না এমনকি মামলা থেকে অব্যাহতিও মিলতো না। আদালত এমন আদেশ না জারি করলে আমি সমাজে মুখ দেখাতে পারতাম না। লজ্জায় আত্মহত্যা ছাড়া উপায় ছিল না। আদালতের আদেশে আমরা কৃতজ্ঞ।

তথ্যসুত্র