রাতের আধারে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন স্বপন মিয়া । ৯ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে স্বপন মিয়া কে গ্রেফতার করেন পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার ভুলুইন দক্ষিণ ইউনিয়নের পরতি গ্রামে। রাত প্রায় ১১ টায় পরতি হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী (১৪) প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বের হলে রাতের আধারেই মুখ চেপে ধরে গলায় চুরি ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে পার্শ্ববর্তী বাড়ির স্বপন মিয়া (৩০)।

ভুক্তভোগী মেয়ের বাবা একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। তিনি চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে কাজ। অল্প বেতনের কারণে স্ত্রী সন্তানদের সাথে রাখতে পারেন না সেই কারণে গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী সন্তানকে রেখে তিনি একাই চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করেন এমনটাই বলছিলেন ভুক্তভোগী মেয়ের বাবা।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগির দাদা থানায় সহায়তা চাইলে থানা পুলিশ এসে ঘটনা পরিদর্শন করে।

এদিকে স্বপন নেয়ার ব্যাপারে এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় যে, তিনি একজন নিয়মিত নেশাখোর তার কাছে সব সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র থাকে যার কারণে এলাকাবাসী তাকে করে অনেক ভয় পায়। স্বপন মিয়া বিরুদ্ধে কথা বলতে এলাকাবাসী রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলছেন ইতোপূর্বেই স্বপন মিয়া বেশ কয়েকবার মানুষের সাথে মারামারি সহ বিভিন্ন রকমের গ্যাঞ্জাম ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন সামাজিকভাবে তা মীমাংসা করে দিলেও স্বপন মিয়া আর পরিবর্তন হন নি। স্বপন মিয়া বেশ কয়েক বছর বিদেশে থেকে দেশে আসেন এরপর বিদেশ থেকে একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসেন সে অস্ত্র দেখিয়ে এলাকাবাসীকে ভয় দেখান এবং নিজের ইচ্ছামত যা খুশি তাই করে বেড়ান। এমনটাই অভিযোগ করছেন তার এলাকাবাসী।

এছাড়াও স্বপন মিয়া সাথে ভুক্তভোগী মেয়েটির মামা ভাগ্নির সম্পর্ক। ভুক্তভোগী মেয়ে বলেন আমি ঘর থেকে বের হয়ে বাথরুম সেরে আবার ঘরে প্রবেশ করি। ঘরে ঢুকেই আমি দেখতে পাই দুইজন মানুষকে এবং সাথে সাথে তারা দুজনে আমাকে মুখ বেঁধে ফেলে এবং স্বপন মামা ধারালো ছুরি বের করে আমার গলায় ধরে। তখন আমি ভয় আর কোন কথা বলতে পারিনি আমাকে বাড়ির বাহিরে তারা দুজন মুখ বেঁধে নিয়ে যায়।

এবং বাড়ির বাহিরে জঙ্গলে নিয়ে আমাকে নষ্ট করে পাশাপাশি আমাকে বলে তুমি কোন কথা বলবে না আমার পকেট এ পিস্তল আছে তুমি চিল্লাচিল্লি করলে তোমাকে গুলি করে মেরে ফেলবো আর এই ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করব। এভাবেই ভুক্তভোগী মেয়েটি বলছিলেন।

এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে তার প্রতিবেশী রা তাকে খুবই ভয় করেন। ধর্ষক স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলতে তার প্রতিবেশীরা রীতিমত ভয় পাচ্ছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

জানা যায় যে, স্বপন মিয়া উপর্যুপরি ধর্ষণ করার পর আরেকজনকে দিয়ে তা মোবাইলের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করেন এবং ধর্ষণের কথা কাউকে বললে সেই ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি ও দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মেয়ের পরিবারের সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চেয়েছেন ভিডিওতে এমনটাই দেখা যাচ্ছে।

তথ্যসুত্র