নবম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করেন হাফিজুর রহমান । ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষপানে আত্নহত্যা করে ঐ ছাত্রী। ২৩ই মার্চ হাফিজুর রহমান কে গ্রেফতার করেন সিআইডি।

বুধবার (২৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির মিডিয়া সেন্টারে রংপুর-খুলনা বিভাগের ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) হাফিজুরকে গ্রেফতার করে সিআইডি। দুই স্ত্রী পরিত্যক্ত হাফিজুর কোতোয়ালীর একটি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর ইউনুস আলীর ছেলে।

নাজমুল আলম বলেন, বদরগঞ্জে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী গত ৫ জানুয়ারি বিষপানে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনার কয়েকদিন পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে আমরা জানতে পারি, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। এরপর সিআইডি ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে।

তিনি আরও বলেন, হাফিজুর মেয়েটিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে ও তার সহযোগী বিপুল চন্দ্রকে (২৬) দিয়ে মুঠোফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। পরে এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে হাফিজুর।

ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার পর ওই স্কুলছাত্রী বিষপান করে। মেয়েটিকে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে নিতে বলেন এবং রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটি মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, ভিডিওটি ওই এলাকায় ভাইরাল হলে স্কুলছাত্রীর পরিবার বাড়ি থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ ইউডি মামলা করে। সিআইডি ছায়া তদন্ত করে প্রধান আসামি হাফিজুরকে গ্রেফতার করার পর মামলাটিরও তদন্তভার নিয়েছে।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেছিল বিপুল চন্দ্র। হাফিজুর তাকে দিয়ে এই ভিডিও গোপন করিয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলে ঘটনার আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

হাফিজুর ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের বিস্তারিত স্বীকার করেছে বলে সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়। তাকে আজই রংপুর-খুলনার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান সিআইডি কর্মকর্তা।

তথ্যসুত্র